১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বললেন রুমিন ফারহানা

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বললেন রুমিন ফারহানা


রাজনীতি ডেস্ক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সূর্যকান্দি গ্রামে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

জনসভায় বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকে নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই এবং ভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, কোনো দল কীভাবে আগাম নিশ্চিতভাবে দাবি করতে পারে যে তারা সরকার গঠন করবে—এ প্রশ্ন জনগণের সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নির্বাচনী পরিবেশে দায়িত্বশীল বক্তব্য ও আচরণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্দিষ্ট কোনো দলের অনুগত থাকবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। নির্বাচন একটি প্রতিযোগিতামূলক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, যেখানে যে কোনো দল বা প্রার্থী জনগণের সমর্থন পেলে বিজয়ী হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি ভুল ধারণা পোষণ না করার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা তার নির্বাচনী প্রতীক ‘হাঁস’-এর পক্ষে ভোট চান। তিনি বলেন, হাঁস প্রতীকটি সততা ও সাহসের প্রতীক হিসেবে তিনি তুলে ধরতে চান। তিনি জানান, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন এবং কোনো দলীয় হাইকমান্ড বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনায় পরিচালিত নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো ধরনের লেনদেন বা প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে যুক্ত নন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। বিভিন্ন সময় এখানে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার ফলে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রার্থীরা এলাকায় সভা-সমাবেশ, পথসভা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তারা। এ প্রেক্ষাপটে রুমিন ফারহানার বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি এ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনসহ প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রার্থীর বক্তব্য ও অবস্থান ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল নির্ধারিত হবে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও মতামতের ভিত্তিতে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত প্রচারণা চলবে এবং প্রার্থীরা তাদের বক্তব্য ও কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন।

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এই আসনের ফলাফল স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ