জাতীয় ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হারানো ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চলমান অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের মতে, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে নির্বাচনপূর্ব সময়ে অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এখনো চার শতাধিক পিস্তল উদ্ধার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এসব অস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা থাকায় নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
সভায় নির্বাচন কমিশনার জানান, ইতিবাচক দিক হলো—১৩ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিশেষ অভিযান ‘ডেভিল হান্ট ফেইজ টু’-এর আওতায় এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই সাফল্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের ফল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা সন্তোষজনক হলেও এখনো যেসব অস্ত্র অবৈধভাবে ব্যবহারের ঝুঁকিতে রয়েছে, সেগুলো দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধার করা জরুরি।
নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিতে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও কৌশলগত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় নির্বাচন কমিশনার চেকপয়েন্ট কার্যক্রম রেনডম ও গতিশীলভাবে পরিচালনার নির্দেশনা দেন, যাতে কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় সহজে চলাচল করতে না পারে। তাঁর মতে, পূর্বানুমেয় চেকপয়েন্ট ব্যবস্থা অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সভায় অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আনসার বাহিনীর পোশাক ব্যবহার করে ভুয়া সদস্যের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়। নির্বাচন কমিশনার জানান, আগের কয়েকটি নির্বাচনে এ ধরনের ঘটনা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছিল। তাই এবারের নির্বাচনে বাহিনীর সদস্যদের পরিচয় যাচাই, পোশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাব ও আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি জেলার সব সংসদীয় আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং নির্বাচন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।
সভায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষ করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে সহিংসতার ঝুঁকি কমবে এবং ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হবে। এর ফলে ভোটার উপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদার হবে। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নির্বাচনকালীন স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সভা শেষে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত নির্দেশনা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ ধরনের সমন্বয় সভা ধারাবাহিকভাবে আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।


