আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের নোইয়া সিয়োন নামের একজন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত হওয়ার খবর হিসেবে প্রদর্শিত একটি প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। সিয়োন জানান, তিনি বাড়িতে বসে নিজে নিজের মৃত্যুর খবর পড়ে বিস্মিত হয়ে যান।
নোইয়া সিয়োন ইসরায়েলের বিভিন্ন শিল্পীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেন। তিনি জানান, ইরানে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভে নিহতদের তালিকায় নিজের ছবি দেখার পর তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। ইসরায়েলের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ১২ দাবি করেছিল, ইরানের বিক্ষোভে ইহুদি বংশোদ্ভূত চারজন নিহত হয়েছেন। এই প্রতিবেদনের প্রচারের পর একাধিক ইসরায়েলি গণমাধ্যম এবং সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে দেন।
চ্যানেল ১৪, যা প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ডানপন্থী চ্যানেল হিসেবে পরিচিত, যাচাই ছাড়াই দাবি করে যে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, তার ২৯ বছর বয়সী স্ত্রী, ২৫ বছর বয়সী এক আত্মীয় এবং ১৫ বছর বয়সী এক শিশু। চ্যানেলটি আরও জানায়, দেশজুড়ে বিক্ষোভে ৩৬ হাজার নিহত হয়েছে। কিন্তু এসব দাবির সঙ্গে কোনো প্রামাণ্য সূত্র সংযুক্ত করা হয়নি।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর নোইয়া সিয়োন টিকটকে একটি ভিডিও পোস্ট করে সব দাবিই অস্বীকার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বিস্মিত অবস্থায় প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন এবং বলেন, “আমি বাড়িতেই আছি। আধা ঘণ্টার মধ্যে আমাকে ট্রেনিংয়ে যেতে হবে।” তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার ইরানে কোনো আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তি নেই।
চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, তাদের প্রতিবেদনের আগে ইরানে চারজন ইহুদি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল এবং সেই তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সিয়োনের ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর এই ভুয়া খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। অনেকেই গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ ঘটনাটি ইরান বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ পরিবেশে তথ্য যাচাই ও দায়িত্বশীল প্রতিবেদনের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত এবং যাচাই-বাছাইহীন সংবাদ প্রচার তথ্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মিথ্যা ধারণা প্রসারের সুযোগ দেয়।
সিয়োনের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার হওয়া ভুয়া তথ্য এবং দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার প্রভাবের একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।


