মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া ও নৌবহর মোতায়েন

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া ও নৌবহর মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দিনব্যাপী সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং একই সঙ্গে বৃহৎ নৌবহর মোতায়েন করেছে। হোয়াইট হাউসের নির্দেশে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে এই নৌবহর অঞ্চলটিতে পাঠানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিমান শাখা এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিবৃতিতে জানিয়েছে, মহড়ার লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিমান দ্রুত মোতায়েন, বিভিন্ন ঘাঁটিতে ছড়িয়ে রাখা এবং দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখার সক্ষমতা প্রদর্শন। একই সঙ্গে এই মহড়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা এবং নমনীয় সামরিক প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মহড়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ, স্থান এবং অংশগ্রহণকারী সামরিক সম্পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।

গত সোমবার সেন্টকম জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে মার্কিন নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। রণতরীতে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান এবং প্রায় ৫ হাজার নাবিক অবস্থান করছে। নৌবহরের সঙ্গে রয়েছে একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রনও অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। এই ইউনিট ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইরানের ওপর চালানো হামলায় অংশগ্রহণ করেছিল। যুক্তরাজ্যও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার অংশ হিসেবে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ইরানের কাছে ‘বড় আর্মাডা’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তিনি আলোচনা এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প পূর্বে বলেছেন, ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যা বা গণফাঁসির সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র হামলার বিকল্প রাখছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দমন-পীড়নে প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যেখানে ইরান সরকার তিন হাজারের কিছু বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, এই মহড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে যৌথ কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিশেষ করে বাহরাইনের সঙ্গে ড্রোন ভূপাতিত করার সক্ষমতা নিয়ে প্রতিরক্ষামূলক অনুশীলনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতায় আঞ্চলিক কিছু মিত্র দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার ক্ষেত্রে তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করা হবে না এবং তারা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চায়। মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, সব কার্যক্রম স্বাগতিক দেশের অনুমোদন এবং বেসামরিক–সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, যাতে নিরাপত্তা, নির্ভুলতা এবং সার্বভৌমত্ব বজায় থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া ও নৌবহর মোতায়েন ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে একটি স্পষ্ট শক্তি প্রদর্শনের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের মহড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক আলোচনার গতিপ্রকৃতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ