রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কুমিল্লা টাউনহল মাঠে সুশাসন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও দুর্নীতিহীন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে পদযাত্রা ও পথসভা আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বাংলাদেশে বিতর্কিত ও ভুয়া তথ্য প্রচারের বিষয় তুলে ধরেন এবং দলের নির্বাচনী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
পথসভায় তিনি বলেন, “বিএনপি ভুয়া ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কথা প্রচার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা তরুণদের কার্ডের নামে ভাতা দিচ্ছি না; বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে চাই।” তিনি বিএনপির প্রতি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে উল্লেখ করেন, ভোটাধিকার হরণ, প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং নারীদের শ্লীলতাহানিকারী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে জনসমর্থন হ্রাস পাবে।
কুমিল্লা বিভাগের উন্নয়ন নিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব বলেন, “আওয়ামী লীগ কুমিল্লাকে বিভিন্নভাবে বঞ্চিত করেছে। নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা হবে।” তিনি নীতিগত বিষয়ে বলেন, “ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, রিক্সা যেখানেই ভোট দেওয়া হোক না কেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে হবে। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে আওয়ামী লীগের পুনরাগমন রোধ করা সম্ভব হবে।”
এনসিপি নেতা আরও বলেন, সম্প্রতি কুমিল্লায় ছাত্রদল সদস্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি এটিকে ফ্যাসিস্ট আচরণের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জনগণ এমন কর্মকাণ্ডে সহ্য করবে না।
পথসভায় কুমিল্লা-৬ আসনের জামায়াত জোটের প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং কুমিল্লা-৮ মনোনীত প্রার্থী শফিকুল আলম হেলালের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরা শারমিন, জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক এডভোকেট মো. তরিকুল ইসলাম এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য হাফজা জাহান।
এনসিপি’র এই কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সুশাসন ও দুর্নীতিহীন সরকারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গণভোট এবং ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় দলের নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, উন্নয়ন নীতি, স্থানীয় অর্থনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এই পদযাত্রা ও সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভা থেকে মূলত রাজনৈতিক বার্তা, নির্বাচনী নির্দেশনা এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়। এনসিপি নেতারা এই কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে দলের উপস্থিতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বৃদ্ধি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করেন।
শুধু নির্বাচনী প্রার্থীদের পরিচয় তুলে ধরা নয়, বরং এই কর্মসূচিতে যুবসমাজের আত্মনির্ভরশীলতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা বিষয়ে দলীয় নীতি ও লক্ষ্য প্রাধান্য পেয়েছে। কুমিল্লা জেলা ও আশেপাশের এলাকায় এনসিপি’র কর্মসূচি চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও সমর্থন বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।


