আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ভারতের রাজ্যসভা। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির সংসদে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। একই প্রস্তাবে রাজ্যসভার সাবেক দুই সদস্য এল গানেসেন ও সুরেশ কালনাদির মৃত্যুতেও শোক জানানো হয়েছে।
খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান গুরুত্বপূর্ণ এবং তা সব সময় স্মরণীয় থাকবে।
নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সেখানে শোকবইতে স্বাক্ষর করে তিনি লিখেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে তার অবদান দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষভাবে তিনি সীমান্ত বিষয়ক আলোচনায় এবং দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।
রাজ্যসভার শোক প্রস্তাবের মাধ্যমে ভারতের রাজনৈতিক মহলে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হলো। পাশাপাশি এল গানেসেন ও সুরেশ কালনাদির মৃত্যুতে শোক জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে এই তিন নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা প্রকাশের পাশাপাশি তাদের অবদানের মূল্যায়ন করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক মহলে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। ভারতের এই শোক প্রস্তাব বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির ইতিবাচক কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিকভাবে নেতৃবৃন্দের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
এতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকাকে পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার অবদানের স্বীকৃতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে।
প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে দেশ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে, পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ভারতের শোক প্রস্তাব এই ঐতিহাসিক অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


