চট্টগ্রামের খুলশীতে নির্বাচনী সংঘর্ষে দুই পক্ষের অভিযোগ-বদল

চট্টগ্রামের খুলশীতে নির্বাচনী সংঘর্ষে দুই পক্ষের অভিযোগ-বদল

আইন আদালত ডেস্ক

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতের এ ঘটনার সময় আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের একটি কার্যালয়ও ভাঙচুরের শিকার হয়। দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। রাত ১০টার দিকে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে আমবাগান এলাকায় রেললাইনের পাশে অবস্থিত বিএনপি সমর্থিত কোকো স্মৃতি সংসদের কার্যালয়ের সামনে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, জামায়াত কর্মীরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় কার্যালয়ের সামনে স্লোগান দিলে ভেতরে থাকা বিএনপি কর্মীরা পাল্টা স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই সংঘর্ষে তাদের অন্তত সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন। শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, ‘মিছিলের সময় বিএনপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে পাথর নিক্ষেপ এবং আমাদের সাতজনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। আমরা প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখি, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আমরা প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হব।’

অপরদিকে, বিএনপি পক্ষও কার্যালয় ভাঙচুর ও তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনেছে। নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে খোদা তোতন বলেন, ‘আমাদের লোকজন অফিসে বসে ছিল। টাইগারপাস এলাকা থেকে বহিরাগতরা এসে অতর্কিতে ভাঙচুর ও মারধর শুরু করলে আমাদের লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যদি হামলাকারীরা জামায়াতের হয়, তা হলে বসে সমাধান সম্ভব নয়।’

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, পাল্টাপাল্টি স্লোগানের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি জানান, পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশের উপস্থিতিতে কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।

এই সংঘর্ষে উভয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য পুলিশি উপস্থিতি জোরদার করা হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় এ ধরনের সংঘর্ষ স্থানীয় শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং প্রশাসনকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ