মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বৈঠক, নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বৈঠক, নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা


রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে শুরু হওয়া এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণসহ সমসাময়িক বিভিন্ন প্রসঙ্গ উঠে আসে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংবিধান অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির কথা রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকে সিইসি কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ ব্যবস্থাপনা, প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নের বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরা হয়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ একাধিক বিষয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ নতুন নয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা নির্বাচন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মানদণ্ড বজায় রাখার বিষয়গুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই বৈঠককে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়নি। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনার প্রক্রিয়া। কমিশন এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান জানিয়ে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করে যে, নির্বাচন কমিশন আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই নির্বাচন পরিচালনা করবে।

এদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো অভিযোগ বা অনিয়মের বিষয়ে নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের যোগাযোগ এবং মতবিনিময় স্বাভাবিক ও নিয়মিত একটি প্রক্রিয়া। এই ধরনের বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে পারস্পরিক ধারণা স্পষ্ট হয়।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। কমিশনের লক্ষ্য হচ্ছে সংবিধান অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা, যাতে জনগণের ভোটাধিকার সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত হয়।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ