উত্তরায় নির্বাচনী জনসভায় গণতন্ত্র, অধিকার ও উন্নয়ন ইস্যুতে বক্তব্য তারেক রহমানের

উত্তরায় নির্বাচনী জনসভায় গণতন্ত্র, অধিকার ও উন্নয়ন ইস্যুতে বক্তব্য তারেক রহমানের

রাজনীতি ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ভোটাধিকারকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই দেশের স্থিতিশীল ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, এসব বিষয় উপেক্ষিত হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচারী শাসনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে একই দিনে তিনি ময়মনসিংহ ও গাজীপুরে পৃথক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন।

বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান মঞ্চের পাশে উপস্থিত গুম ও হত্যাকাণ্ডে স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, গত ১৬–১৭ বছরে রাজনৈতিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনে অনেক পরিবার আপনজন হারিয়েছে। এই সময়কালকে তিনি রাজনৈতিক দমন–পীড়নের সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে চলা রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টেকসই করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

তারেক রহমান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি উত্তরার জনগণের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলন ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এ এলাকার মানুষের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যাননি।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য স্বাভাবিক হলেও, তা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে সীমাবদ্ধ না থাকে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত শান্ত ও দায়িত্বশীল আলোচনার মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান নিয়ে ভাবা। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও কার্যকর নীতি প্রণয়ন জরুরি।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার প্রসঙ্গে তারেক রহমান উত্তরার স্বাস্থ্যখাতের চাহিদার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে উত্তরায় একটি সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা পেতে পারে। তাঁর বক্তব্যে বলা হয়, রাজধানীর দ্রুত বর্ধনশীল এলাকাগুলোতে জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো এখনও অপর্যাপ্ত।

উত্তরার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তারেক রহমান বলেন, নগর এলাকার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ বাড়ে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এ সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

পানিসংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়া, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়া এবং উজানে বাঁধ নির্মাণের কারণে পানির সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, এসব সমস্যার সমাধানে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তিনি জানান, বিএনপি খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশে পানি সমস্যার সমাধানে কাজ করার পরিকল্পনা করেছে।

কর্মসংস্থান বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ কর্মসংস্থানের বাইরে রয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তাঁর মতে, পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী নীতি গ্রহণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মক্ষেত্রে যুক্ত করা সম্ভব।

সমালোচনামূলক বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, গত দেড় দশকে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও সাধারণ মানুষের সমস্যার টেকসই সমাধান হয়নি। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী না হলে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এজন্য তিনি জনগণকে গণতন্ত্রের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

নির্বাচনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারেক রহমান মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে জনসভা শেষে তিনি গাজীপুরে যান এবং রাত ১২টার দিকে ওই সমাবেশ শেষ করে ঢাকায় ফেরেন। সফরকালে তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ