রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কাজ করতে প্রস্তুত।
আজ দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এই মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি জনগণ যে সিদ্ধান্ত নেবে, তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে।’
বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, বৈঠকে নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
ক্রিস্টেনসেন গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করেন। সেই সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, এবারের নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত উৎসাহিত। দেশের জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিচ্ছেন এবং নির্বাচনের ফলাফল দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচন হবে উৎসবমুখর এবং দেশের সকল ভোটার স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে সক্ষম হবেন। তিনি বলেন, “আশা করি নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং এটি একটি উদাহরণ হবে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার।”
আজকের বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত), নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ, মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ। বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি, প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, ২০২৬ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকসহ স্থানীয় পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের সমর্থন দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতাকে প্রতিফলিত করে।


