গাইবান্ধায় ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু ও জেলের ঘটনা নিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের মন্তব্য

গাইবান্ধায় ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু ও জেলের ঘটনা নিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের মন্তব্য

রাজনীতি ডেস্ক

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বুধবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক পথসভায় বলেন, গত দেড় বছরে যারা আইনি ও ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তারা ভবিষ্যতেও তা করতে পারবেন না। তিনি উদাহরণ হিসেবে বাগেরহাটের এক ছাত্রলীগ নেতার ঘটনার উল্লেখ করেন। পাটোয়ারী বলেন, ওই নেতাকে বিচারের আগে দুই বছর জেলে রাখা হয়েছে, যা তিনি ‘ন্যায়বিচার’ হিসেবে গণ্য করছেন না।

পাঠকদের জন্য ঘটনা সংক্ষেপে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, বাগেরহাটের ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের চাতালে ছাত্রলীগের এক নেতা জেলে বন্দি ছিলেন। পাটোয়ারী বলেন, নেতার স্ত্রী বারবার জামিনের চেষ্টা করলেও প্রশাসন তাকে জেল থেকে মুক্তি দেয়নি। এর ফলে তার স্ত্রী ও সন্তান সহ জীবনের অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “একাধিকবার জেলে ঢোকানো হয়েছে। স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে প্রথমবার দেখা হয়, তা-ও মৃত অবস্থায়।”

পাঠকদের কাছে তিনি আরও তুলে ধরেন, এই ঘটনার মাধ্যমে আইনের শাসন ও ন্যায়ের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, “দেড় বছরে কোরআনের আইন বাস্তবায়ন হয়নি, ইনসাফ করা হয়নি। এখন যদি ন্যায়ের ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে কীভাবে তা সম্ভব হবে।”

পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য, এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জাতীয় পার্টি নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাটোয়ারী বলেন, দল শান্তিতে বিশ্বাসী এবং দেশের শান্তি রক্ষায় কাজ করবে।

ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এ টি এম মাহবুব আলম শাহীন। সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জাপা নেতা ওয়াহিদুজ্জামান সরকার বাদশা, উপজেলা সিনিয়র সহসভাপতি মো. আনছার আলী সরদার, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান মন্ডল, রামজীবন ইউনিয়ন সভাপতি এ টি এম এনামুল হক মন্টু, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন সভাপতি মো. রেজাউল হক রেজা, বেলকা ইউনিয়ন সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম রানা, জাপা নেতা মুন্সি আমিনুল ইসলাম সাজু ও জাতীয় যুব সংহতির উপজেলা সভাপতি সাইদুর রহমান প্রমুখ।

সভায় বক্তারা ন্যায়ের বাস্তবায়ন, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ ও সামাজিক শান্তি রক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। পাটোয়ারী ও অন্যান্য নেতারা প্রতিশ্রুতি দেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও অনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে দল কাজ করবে।

গাইবান্ধা জেলার এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সমালোচনার বিষয় হিসেবে উঠেছে। জাতীয় পার্টি নেতাদের বক্তব্যে এমনকি এই ঘটনাকে দেশের আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের অগ্রগতির মানদণ্ড হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও ক্ষমতার প্রয়োগের মধ্যে সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের সংঘাতের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া, জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সংলাপ ও সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে সামাজিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন।

গাইবান্ধা জেলার এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের মন্তব্য দেশব্যাপী রাজনৈতিক পরিবেশ ও ন্যায়ের বিষয়ক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা সামাজিক ও মানবিক সংবেদনশীলতা এবং আইনের শাসনের কার্যকারিতা নিয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ