রাজনীতি ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দলের প্রধান হিসেবে কোনো নারীকে নির্বাচিত করা হবে না বলে জানিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বর্তমান সংস্কৃতি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে দল নারীকে সর্বোচ্চ পদে মনোনয়ন দেয় না।
আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন সাক্ষাৎকারে জানতে চেয়েছিলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নারী প্রার্থীর সংখ্যা কত। ডা. শফিকুর রহমান জানান, এ মুহূর্তে দলের কোনো নারী প্রার্থী নেই। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দল অল্পসংখ্যক হলেও নারী প্রার্থী দিয়েছে, তবে এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিপ্রেক্ষিতে গ্রহণযোগ্য নয়। দলের দৃষ্টিকোণ থেকে ভবিষ্যতের জন্য নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে নারী নেত্রী হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহ প্রত্যেককে আলাদাভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং পুরুষ ও নারীর শারীরিক এবং সামাজিক দায়িত্বে স্বতন্ত্রতা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি মাতৃত্বের দায়িত্ব ও শিশু পালনকে উল্লেখ করেছেন, যা শুধুমাত্র নারী বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। তিনি বলেন, “এটা আল্লাহর দান এবং আমরা এটিকে পরিবর্তন করতে পারব না।”
ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের অতীত নারী প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, দল তাদেরকে অসম্মান করছে না এবং তাদের কর্মকাণ্ডে কোনো অসুবিধা নেই। তবে জামায়াতের দৃষ্টিকোণ থেকে নারীর শারীরিক ও সামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে সর্বোচ্চ পদে নেতৃত্ব প্রদান করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কিছু দায়িত্বের ক্ষেত্রে নারী দায়িত্ব পালন করতে পারে না এবং এটি একটি বাস্তবতা, যা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও সমানভাবে দেখা যায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পৃথিবীর বেশিরভাগ উন্নত দেশেও নারীকে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পদে যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয় না। জামায়াতের অভ্যন্তরীণ নীতি অনুযায়ী, দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক দায়িত্বে নারীদের অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, নারীদের অসম্মান করা হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য দল প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সামাজিক ধারণা এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যার আলোকে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিষয়ে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি আগামী নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়ন ও নেতৃত্ব কাঠামোর কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।


