রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিরাপদ প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র সমাধান :প্রধান উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিরাপদ প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র সমাধান :প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজেদের ভূমিতে দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিরাপদ প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র কার্যকর ও টেকসই সমাধান। তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে বৈঠকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে, সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। শরণার্থী শিবিরে প্রযুক্তির সুযোগসহ এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হলো শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, শরণার্থী শিবিরে দীর্ঘদিন অবস্থান রোহিঙ্গাদের জন্য কোনো সমাধান নয়। এতে করে সামাজিক চাপ, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নতুনভাবে উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।

বৈঠকে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে সহায়তা তহবিলের কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া ভাসানচরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশের আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কেও আলোচনা পরিচালিত হয়। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শরণার্থীদের জন্য টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

শরণার্থী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নিরাপদ পরিবহন, পুনর্বাসনকেন্দ্রের উন্নয়ন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা, এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতকরণের ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে প্রত্যাবাসন শুধুমাত্র মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং সীমান্ত সুরক্ষা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া, শরণার্থী শিবিরে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে শিক্ষিত ও কর্মক্ষম তরুণ প্রজন্মের ক্ষুদ্র ঝুঁকি নির্ণয়, প্রযুক্তি ও শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম বৃদ্ধি, এবং সামাজিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করার পরামর্শও বৈঠকে এসেছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শরণার্থী প্রত্যাবাসন কার্যক্রমকে সফল করতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকার এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, দ্রুত ও সুষ্ঠু প্রত্যাবাসন রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক ও নিরাপত্তাগত সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে মূল ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠক শেষে, ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিরা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া, সহায়তা তহবিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ