রাজনীতি ডেস্ক
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি আজমল সরকারের নেতৃত্বে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে শতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
জিয়ারকান্দি মাতৃছায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এই যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নির্বাচনী সমাবেশে মিছিল নিয়ে জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের এই নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন সরকার, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আলী হোসেন মোল্লা, সহ-সভাপতি এমদাদ হোসেন আখন্দ, এবং জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন সরকার।
আজমল সরকার সাংবাদিকদের জানান, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এবং দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কারণে তার ভোটগুলো হারিয়ে যায়। দল থেকে সঠিক মূল্যায়ন না পাওয়ায় এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরক্তির কারণে তিনি অবশেষে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোট প্রদান কার্যক্রমের বাস্তবতার কারণে অনেক চিন্তাভাবনার পর বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য শুনে এবং তার নেতৃত্বকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আজমল সরকার শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তিনি জানান, বিএনপি একটি আদর্শের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম যেখানে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে যে কেউ আসতে পারে। পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক অভিপ্রায় সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য দলের দরজা সবসময় খোলা থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের পদত্যাগ ও যোগদান স্থানীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং কুমিল্লা-২ আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে। এছাড়া, দলীয় সংঘর্ষ ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অবস্থানও নির্বাচনী ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলত্যাগ ও নেতাকর্মীর দলে যোগদান একটি সাধারণ ঘটনা, যা প্রার্থীর জনপ্রিয়তা এবং ভোটের ফলাফলের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে নির্বাচনী ময়দানে এই ধরনের সমাবেশ ও জনসংযোগ কার্যক্রম ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করতে পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ ভোটাররা সমন্বিত প্রভাবের দিকে নজর রাখছেন, বিশেষ করে যেসব এলাকায় দলীয় শক্তি বিতরণ অসমভাবে বিভক্ত রয়েছে। জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন এবং আশেপাশের অঞ্চলে এই ধরনের পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনৈতিক দলে নতুন গতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়া, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকা নেতা-কর্মীদের দলে যোগদান স্থানীয় ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও জোরালো করতে পারে। বিএনপির পক্ষ থেকে এই ধরনের জনসংযোগ কৌশল তাদের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।


