জামায়াতের দুটি আসনের ব্যালটপেপারে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাদ চাওয়া আবেদন

জামায়াতের দুটি আসনের ব্যালটপেপারে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাদ চাওয়া আবেদন

রাজনীতি ডেস্ক

জামায়াতে ইসলামী নরসিংদী-২ ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের ব্যালটপেপারে তাদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক না রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত আবেদনটি ২৩ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বরাবর জমা দেওয়া হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নরসিংদী-২ আসনে মো. আমজাদ হোসাইন এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে মো. আবু নাসেরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

তবে ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সমঝোতার অংশ হিসেবে দলটি নরসিংদী-২ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী গোলাম সরোয়ার ওরফে সারোয়ার তুষারকে এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপির মনোনীত প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে ছেড়ে দেয়।

আবেদনে বলা হয়েছে, দুটি আসনের জন্য জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা যথাসময়ে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। সেই কারণে ওই দুই আসনের ব্যালটপেপারে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ না রাখার জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও প্রতীক সংশোধনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে। বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যালটপেপারে প্রতীক প্রদানের বিষয়টি প্রার্থীর নাম প্রত্যাহারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় এ ধরনের আবেদন নিয়মিতভাবে গ্রহণ ও প্রক্রিয়াজাত হয়।

বাংলাদেশে প্রতীকভিত্তিক ভোট প্রথা প্রার্থীদের পরিচয় এবং ভোটারদের জন্য নির্দেশিকা সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে জটিল রাজনৈতিক সমঝোতা ও নির্বাচনি জোটে প্রতীক বিতরণের সিদ্ধান্ত ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি সহ অন্যান্য ঐক্যবদ্ধ দলগুলো নির্বাচনী চুক্তি এবং প্রতীক বিতরণের বিষয়টি জাতীয় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে নির্বাচনের পূর্বে কমিশনের মাধ্যমে সমাধান করে থাকে। নির্বাচনী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার এবং প্রতীক পরিবর্তনের সময়সীমা ও নিয়মকানুন নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত।

এতে করে নরসিংদী-২ ও চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোটের দিন ব্যালটপেপারে সংশ্লিষ্ট দলের প্রতীক প্রদর্শিত হবে কি না, তা কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর নাম প্রত্যাহার এবং প্রতীক সংশোধনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত ব্যালটপেপার প্রিন্ট করা হবে।

বিগত জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণ ও প্রতীক বিতরণ প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের নিকট আবেদন করা ও কমিশনের অনুমোদন নেওয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে আসছে। এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও একই নিয়ম কার্যকর হবে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ