রাজনীতি ডেস্ক
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে বলেছেন, ওই সময় দলটি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল এবং এ বিষয়ে তারা এখনো জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। তার মতে, ক্ষমা না চেয়ে জনগণের কাছে ভোট চাওয়া রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের আরাজি চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এ জনসভায় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, অতীত ইতিহাস এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলো রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তৈরি করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা বিরোধী ভূমিকা রেখেছিল, তাদের সেই অবস্থানের বিষয়ে জাতির সামনে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ঘটনার দায় এড়িয়ে গেলে জনগণের আস্থা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
জনসভায় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন। বিশেষ করে কৃষি খাতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, সার সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির কারণে কৃষকরা সমস্যার মুখে পড়ছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান ব্যবস্থায় সার পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা উৎপাদন ও কৃষকের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে।
বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, তাদের দল সরকার গঠন করলে কৃষকদের জন্য সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ খোলা বাজারে সহজলভ্য করা হবে। তিনি বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি, ফলে এই খাতের সংকট সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে একটি কার্যকর সরকার গঠনের সুযোগ রয়েছে এবং সে ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তার বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে। তিনি বলেন, দলটি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ ও ইতিহাসের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।
জনসভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এ ধরনের সভা ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে দলীয় নেতারা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সরকারের কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক মাঠে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে এসব ইস্যু কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।


