ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ব্যানার ব্যবহারে স্পষ্টীকরণ দিল নির্বাচন কমিশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ব্যানার ব্যবহারে স্পষ্টীকরণ দিল নির্বাচন কমিশন

জাতীয় ডেস্ক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যানার ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহৃত ব্যানারের আকার সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। ব্যানারটি আনুভূমিক কিংবা উলম্ব—যে কোনো বিন্যাসে ব্যবহার করা গেলেও নির্ধারিত মাপ অতিক্রম করা যাবে না।

এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে দেশের সব রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি ৭ অনুসারে ব্যানার ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সে পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন এই ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আচরণবিধিমালায় ব্যানারের আকার নির্ধারণ সংক্রান্ত যে বিধান রয়েছে, তার প্রয়োগ নিয়ে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই কমিশন এই স্পষ্টীকরণ দিয়েছে। ফলে এখন থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট মাপের ব্যানার ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যানারটি আনুভূমিক (হরাইজন্টাল) অথবা উলম্ব (ভার্টিকাল) যেকোনো আকারে হতে পারে, তবে মাপের ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় গ্রহণযোগ্য হবে না।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচারণাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ, পরিবেশবান্ধব ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আচরণবিধিমালায় বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনসহ প্রচারসামগ্রীর আকার নির্ধারণ তারই একটি অংশ। অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে বড় আকারের ব্যানার ব্যবহার করে সড়ক, বিদ্যুৎ খুঁটি ও সরকারি স্থাপনা দখলের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ব্যানারের আকার সীমিত রাখার মাধ্যমে একদিকে যেমন নগর ও গ্রামীণ এলাকায় দৃশ্যদূষণ কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যয়ের প্রতিযোগিতাও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। একই সঙ্গে আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল হবে বলে কমিশনের প্রত্যাশা।

চিঠিতে রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় এই স্পষ্টীকরণ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অবৈধ বা নির্ধারিত মাপের বাইরে থাকা ব্যানার অপসারণের কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, কমিশনের এই স্পষ্ট নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ও প্রার্থীদের জন্য কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে ব্যানারের আকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে বিভ্রান্তি ও মতভেদ ছিল, তা অনেকাংশে দূর হবে। একই সঙ্গে আচরণবিধি বাস্তবায়নে কমিশনের কঠোর অবস্থানের বার্তাও এতে স্পষ্ট হয়েছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন একাধিক নির্দেশনা ও পরিপত্র জারি করেছে। এর মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়, প্রচার সামগ্রী ব্যবহার, সভা-সমাবেশ আয়োজন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার রোধে নানা বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আচরণবিধি কঠোরভাবে মানা ছাড়া বিকল্প নেই।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যানার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মাপ অনুসরণ করা নির্বাচনী প্রচারণার একটি বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে গণ্য হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ