দেশের স্বর্ণবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করেছে, যেখানে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে বাজুসের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঘোষণাকৃত এই নতুন দাম একই দিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনার দামে এই সমন্বয় করা হয়েছে। তেজাবি সোনা মূলত সোনার বিশুদ্ধতার মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এর দামের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করেই দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই কাঁচামালের দামে হ্রাস পাওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৯ টাকায়। ১৮ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা। এই দরে সোনার দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে জুয়েলারি শিল্পের প্রচলিত নিয়ম ও মান অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘোষিত এই মূল্যগুলো কেবল সোনার মূল বিক্রয়মূল্য। এর সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গয়নার নকশা, কারুকাজ ও মানভেদে এই মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে ক্রেতারা দোকানভেদে ও গয়নার ধরন অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্যে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করতে পারেন।
সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামেও হ্রাস এসেছে। বাজুসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৭ হাজার ৪০৭ টাকায়। ১৮ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ৭৮২ টাকা। নতুন এই দামও একই সময় থেকে কার্যকর হয়েছে।
স্বর্ণ ও রুপার দামে এই হ্রাসের ফলে দেশের গয়নার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মৌসুমে গয়নার চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। দাম কমার কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কেনাকাটার আগ্রহ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরাও বিক্রি বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন।
তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং আমদানি সংক্রান্ত ব্যয় ভবিষ্যতে দেশের বাজারে সোনার দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এই দরপতন দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হবে কি না, তা নির্ভর করবে বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। আপাতত বাজুস ঘোষিত নতুন মূল্য অনুযায়ী দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে লেনদেন চলবে।


