সৌদি-বাংলাদেশ রুটে প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ ভাড়ায় বিমান টিকিট নির্ধারণ

সৌদি-বাংলাদেশ রুটে প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ ভাড়ায় বিমান টিকিট নির্ধারণ

জাতীয় ডেস্ক

প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের দেশে যাতায়াত সহজ ও সাশ্রয়ী করতে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ রুটে বিশেষ ভাড়ায় বিমান টিকিটের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় একমুখী বিমান টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা, যা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ ভাড়ার কারণে ভোগান্তিতে থাকা প্রবাসী কর্মীদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এই ব্যবস্থার ফলে প্রবাসী কর্মীদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ আরও সহজ হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এ বিষয়ে জানান, সৌদি আরব ও বাংলাদেশ রুটে এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ একদিকে যেমন প্রবাসী কর্মীদের আর্থিক চাপ কমাবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আয় বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।

শেখ বশিরউদ্দীন জানান, হজ মৌসুমে দীর্ঘদিন ধরে বিমান পরিচালনায় একটি কাঠামোগত সমস্যা বিদ্যমান ছিল। হজযাত্রী পরিবহনের পর বহু ক্ষেত্রে বিমানগুলো একমুখী ফাঁকা অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরত, ফলে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারাতে হতো। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই ফাঁকা ফ্লাইটগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অতিরিক্ত একশ কোটি টাকার বেশি আয় হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ ভাড়ার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, এই ব্যবস্থায় মদিনা-ঢাকা ও জেদ্দা-ঢাকা রুটে একমুখী টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি মদিনা-ঢাকা-মদিনা এবং জেদ্দা-ঢাকা-জেদ্দা রুটে রিটার্ন টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রুটের তুলনায় এই ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম, যা বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের প্রবাসী কর্মীদের জন্য সহায়ক হবে।

সময়সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশে আগমনের ক্ষেত্রে এই বিশেষ ভাড়া কার্যকর থাকবে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত। আর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ফেরার ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে ৩০ মে থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে টিকিট সংগ্রহ ও ভ্রমণের সুযোগ থাকায় হজ পরবর্তী সময়ে দেশে আসা ও পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এই উদ্যোগকে প্রবাসীবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন এবং তাঁদের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, এ ধরনের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত প্রবাসীদের জীবনযাত্রা সহজ করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে প্রবাসীদের সুবিধা বিবেচনায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সঠিক তদারকি ও ধারাবাহিকতার অভাবে অনেক কর্মসূচি প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। তাই এই বিশেষ ভাড়ার ব্যবস্থাটি যেন ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে শতভাগ কার্যকর হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নজর রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে বিমান ভাড়ার উচ্চমূল্য নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। সরকারি পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রবাসী কর্মীদের আর্থিক সাশ্রয় হবে এবং দেশে-বিদেশে তাঁদের যাতায়াত আরও পরিকল্পিত ও স্বচ্ছ হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থার বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ