আইআরএস ও ট্রেজারির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আইআরএস ও ট্রেজারির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) ও কোষাগার বিভাগ (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট)-এর বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তাঁর এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গোপন করতথ্য ফাঁস হওয়া প্রতিরোধে ফেডারেল সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে বৃহস্পতিবার দায়ের করা এই মামলায় বাদী হিসেবে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর দুই ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, গোপন করতথ্য প্রকাশের ফলে বাদীপক্ষের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং জনসমক্ষে তাদের অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

মামলায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর আইন অনুযায়ী করদাতাদের তথ্য অত্যন্ত কঠোর গোপনীয়তার আওতায় সংরক্ষিত থাকার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সময়ে আইআরএস ও ট্রেজারি বিভাগ সেই গোপনীয়তা রক্ষায় যথাযথ নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেনি। এর ফলে করতথ্য অননুমোদিতভাবে বাইরে চলে যায়, যা ফেডারেল আইন লঙ্ঘনের শামিল।

এই মামলার পটভূমিতে রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক এক সাবেক আইআরএস ঠিকাদারের অপরাধ। ওই ব্যক্তি প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রযুক্তি খাতে কাজ করা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন। তিনি আইআরএসের তথ্যভান্ডার থেকে করতথ্য সংগ্রহ করে তৃতীয় পক্ষের কাছে সরবরাহ করেন। ২০২৪ সালে দোষ স্বীকারের পর আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। প্রসিকিউশন পক্ষের মতে, আইআরএসের ইতিহাসে এ ধরনের তথ্যফাঁসের ঘটনা নজিরবিহীন।

ফাঁস হওয়া তথ্যে ট্রাম্প ও তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের করসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পের কর পরিশোধ, কর রিটার্নে অসামঞ্জস্য এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে কংগ্রেসের একটি কমিটি আইনগত প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের একাধিক বছরের কর রিটার্ন প্রকাশ করে, যা বিষয়টিকে আরও রাজনৈতিক ও জনআলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

মামলায় ট্রাম্পের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই তথ্যফাঁস কেবল ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন নয়, বরং তা ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তাঁর প্রতি ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি ও সমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাঁদের মতে, করতথ্য প্রকাশের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বিতর্ক ও আলোচনা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর পরিস্থিতির জন্ম দেয়।

ওই সাবেক ঠিকাদার ট্রাম্প ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকজন শীর্ষ ধনকুবেরের করতথ্য সংগ্রহ ও ফাঁস করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের চুক্তি বাতিল করে। বিভাগটি জানায়, আইআরএসের মতো সংবেদনশীল সংস্থার সঙ্গে কাজ করার সময় করদাতাদের তথ্য সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় মানদণ্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ট্রেজারি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা তখন বলেন, করতথ্য সুরক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং এ ধরনের ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইআরএস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস, ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও আইআরএসের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর আইনি ও প্রশাসনিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের করতথ্য সুরক্ষা নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ