অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে স্বর্ণের দাম কমিয়ে নতুন হার কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৪ হাজার ৬৩৮ টাকা কমিয়ে এই মূল্য নির্ধারণ করেছে। নতুন দরে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকায়। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস এই তথ্য জানায়।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য, স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহ এবং কাঁচামালের দামের ওঠানামার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
নতুন ঘোষিত দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৯ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা। এসব দাম সারা দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে বাজুস।
বাজুস আরও জানিয়েছে, ঘোষিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার নকশা, কারুকাজ ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। ফলে ক্রেতাদের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব অতিরিক্ত ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে।
এর আগে, চলতি মাসের ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছিল। সেদিন ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ানো হয়। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবার দাম কমানোয় বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা স্পষ্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, ডলার বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণেই এমন ঘন ঘন সমন্বয় হচ্ছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ১৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৪ বার কমানো হয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে, স্বর্ণের বাজারে স্থিতিশীলতা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতা—উভয়ের জন্যই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত ২০২৫ সালে স্বর্ণের দামে আরও বেশি পরিবর্তন দেখা গেছে। ওই বছরে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়। এত ঘন ঘন দামের পরিবর্তন স্বর্ণকে একদিকে যেমন মূল্যবান বিনিয়োগ হিসেবে ধরে রেখেছে, অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য গহনা কেনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম কমায় স্বল্পমেয়াদে গহনার বাজারে কিছুটা গতি আসতে পারে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম বা সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ক্রেতারা এই সুযোগ নিতে পারেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের গতিপ্রকৃতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় মুদ্রাবাজারের ওপর।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাস স্বর্ণবাজারে সাময়িক স্বস্তি আনলেও দামের ঘন ঘন ওঠানামা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছে। বাজুসের ঘোষণার পর এখন দৃষ্টি থাকবে আন্তর্জাতিক বাজার ও পরবর্তী সময়ে আর কোনো সমন্বয় আসে কি না, সে দিকেই।


