নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা

খেলাধূলা ডেস্ক

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ানোয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়াও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে, যা বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ আয়োজন নিয়ে আলোচনা জোরদার করেছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০ দল নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মোট ৫৫টি ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি ম্যাচ ভারতে এবং বাকি ২০টি ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে নিপাহ ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দল ও ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ইতিমধ্যে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের উদ্বেগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) জানিয়েছে বলে জানা গেছে। নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমণের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড়দের চলাচল, আবাসন ও ভিড়পূর্ণ পরিবেশকে এই উদ্বেগের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইংল্যান্ডের এই অবস্থানের পর ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ভারতের নিপাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অসুস্থ যাত্রীদের জন্য বিদ্যমান আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধিতে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা যায়নি। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়া সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ার কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হলেও অস্ট্রেলিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে এখনো নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাস একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রামক রোগ, যার সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। ভাইরাসটি সাধারণত প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে এবং মানুষের মধ্যে সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে। দেশটির জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মাস্ক, গগলস ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহারের কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। পাশাপাশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। দীর্ঘ সময় এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ, দলগত অনুশীলন, ম্যাচ ভেন্যুতে দর্শকসমাগম এবং বিভিন্ন শহরে অবস্থান—সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা বাড়ায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যেও সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে পুরো টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নির্ধারিত সময়ের এত কাছাকাছি এসে ভেন্যু পরিবর্তন করা আইসিসির জন্য বড় ধরনের সাংগঠনিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ম্যাচ সূচি, সম্প্রচার চুক্তি, টিকিট বিক্রি, দলগুলোর ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতি—সবকিছু নতুন করে সমন্বয় করতে হবে।

এ ছাড়া অতীত অভিজ্ঞতাও বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে কোনো দেশের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন প্রত্যাখ্যানের নজির রয়েছে, যা আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ফলে নিপাহ ভাইরাস পরিস্থিতি, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিগত বাস্তবতা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আইসিসিকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভারতের নিপাহ ভাইরাস পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। আগামী দিনগুলোতে আইসিসি, আয়োজক দেশ এবং অংশগ্রহণকারী বোর্ডগুলোর আলোচনার ফলই নির্ধারণ করবে এই বহুল আলোচিত টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত রূপরেখা।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ