জামায়াত ক্ষমতায় এলে মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার ঘোষণা, কুমিল্লা বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি

জামায়াত ক্ষমতায় এলে মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার ঘোষণা, কুমিল্লা বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি

 

রাজনীতি ডেস্ক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন, জামায়াত সরকারে না এলেও কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করতে রাজনৈতিকভাবে বাধ্য করা হবে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় রাত ৯টার দিকে। ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে শিক্ষা, প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনীতি, রাজনীতি ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। বিশেষ করে নারীদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেয়েরা যেন মাস্টার্স পর্যন্ত বিনা খরচে পড়াশোনা করতে পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার মতে, নারীশিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হবে।

কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করার বিষয়ে তিনি বলেন, কুমিল্লা একটি ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বিভাগ গঠনের আগে কুমিল্লা বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করতে হবে এবং কুমিল্লা ইপিজেডকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লা ও আশপাশের অঞ্চলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম গতিশীল হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

যুবসমাজের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তরুণরা সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। তার ভাষায়, এই আন্দোলন কেবল আর্থিক সুবিধার জন্য নয়, বরং মর্যাদার প্রশ্নে সংগঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, তরুণদের এই ভূমিকা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

ডা. শফিকুর রহমান আগামী ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জনগণ নিপীড়নের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি দাবি করেন, যারা ক্ষমতায় গিয়ে নিপীড়কের ভূমিকা নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ভোটের মাধ্যমে জনগণ অবস্থান নেবে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহারের কথা উল্লেখ করে বলেন, জামায়াত প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেয়।

অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলগুলো দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। তবে তার দাবি অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরও জামায়াত ইসলামী সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, গুমসহ বিভিন্ন ঘটনায় দলটির নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবু তারা প্রতিশোধের পথে না গিয়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই অবস্থান করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জামায়াত ইসলামী চাঁদাবাজিতে জড়াবে না। তার ভাষায়, দলটি খুব সীমিত পরিসরে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং কোনো ধরনের বেআইনি অর্থ সংগ্রহে যুক্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে জামায়াত, কারণ তাদের ত্যাগের মাধ্যমেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

দেশে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পর্যন্ত সবাই এই সমস্যার শিকার হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ফোনের মাধ্যমে চাঁদা দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বাড়ছে। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে। ভোটের আগে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাগপার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ