রাজনীতি ডেস্ক
গাজীপুর: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা জামালপুর আর এম বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় বলেন, ভালো নেতা ছাড়া জাতির মুক্তি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, গাজীপুরের মাটি ইসলামের ঘাটি, এবং ইসলামী নীতি অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে, যেখানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা এবং অন্যায়ভাবে জমি দখলের কোনো সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, ন্যায়-নীতি ও আদর্শবান নেতা ছাড়া দেশের মানুষের শান্তি কামনা করা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত দিনের শাসকরা যদি যোগ্য ও ন্যায়নিষ্ঠ থাকতেন, তবে বাংলাদেশ সোনার খনি হিসেবে পরিচিত হতো।
মুফতি রেজাউল করিম জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ ১১ দল থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে তারা শরিয়াহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না, বরং প্রচলিত নিয়ম ও পদ্ধতিতেই দেশ পরিচালনা করবে। এই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থানও আলাদা হয়ে যায়। তিনি জনগণকে ভালোর পক্ষে, ইসলামের পক্ষে এবং দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।
জনসভায় তিনি গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানকে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
সভায় বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এতে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক লোকমান হোসেন জাফরী, মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আবুল কাশেম, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হুসাইন ইবনে সারওয়ার। এছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, উপজেলা শাখার সভাপতি ইজহারুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু হানিফ, গাজীপুর জেলার ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মো. আজিজুল ইসলাম, সহ-সভাপতি হুসাইন আহমেদ ইমন, থানা শাখার সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান এবং সহ-সভাপতি এম সাইদ ভূইয়া পারভেজও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন আব্দুল আউয়াল। নেতারা দেশ পরিচালনায় ন্যায়নীতি ও আদর্শবান নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা এবং ইসলামী নীতি অনুসারে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।
此次 জনসভায় বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর পক্ষে ভোটদানের মাধ্যমে জনগণকে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তারা মনে করান, এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণ ন্যায়-নীতি এবং আদর্শবান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


