রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো দলের বা কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়; এই দেশের প্রকৃত মালিক দেশের জনগণ। তিনি বলেন, আগামী দিনের রাজনীতি হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও দেশের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে এবং এমন পরিস্থিতি যাতে আর সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে ভোটারদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি দাবি করেন, এখনো কিছু মহল ভোট প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন কৌশলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিগত প্রায় দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ নানাভাবে বঞ্চিত হয়েছে। স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে শুরু করে নাগরিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে ঘাটতি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বড় উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতির অভিযোগ, গুম ও মিথ্যা মামলার ঘটনার কথাও তিনি বক্তব্যে তুলে ধরেন। তারেক রহমান বলেন, এসব পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য জনগণকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হলে নির্বাচনে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।
বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারেক রহমান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য প্রস্তাবিত কর্মসূচির কথা বলেন। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পর্যায়ক্রমে নারীদের আয়মুখী কার্যক্রমে যুক্ত করার মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে তাদের ভূমিকা জোরদার করার কথা জানান।
কৃষকদের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী কৃষির সঙ্গে যুক্ত। কৃষক ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে—এই ধারণা থেকে কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি কৃষিঋণের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কৃষিঋণ সহজ শর্তে প্রদান এবং কিছু ক্ষেত্রে সুদসহ মওকুফের চিন্তাভাবনাও রয়েছে।
ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারীদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের কাজ।
প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমালোচনায় সময় ব্যয় না করে জনগণের সামনে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরাই রাজনৈতিক দলের প্রধান দায়িত্ব। জনগণ ভোটের মাধ্যমে যে রায় দেবে, তার ভিত্তিতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্য শেষে তারেক রহমান টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের প্রতি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে পরবর্তী দিন থেকেই ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা ও জেলা নেতারা। সভায় টাঙ্গাইল-১ থেকে টাঙ্গাইল-৮ আসনের দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


