বিএনপি প্রার্থীর আপিল খারিজ, কুমিল্লা-৪ আসনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ

বিএনপি প্রার্থীর আপিল খারিজ, কুমিল্লা-৪ আসনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ

 

আইন আদালত ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা ফেরত পাওয়ার জন্য করা লিভ টু আপিল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আইনজীবীদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী সংশ্লিষ্ট আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। বিষয়টি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পেছনের কারণ এখনও আদালতের নথিতে বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়নি। তবে সাধারণত এ ধরনের প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়গুলোতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (নিসি) বা সংশ্লিষ্ট আদালত প্রার্থীর নির্বাচনী যোগ্যতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ভোটার তালিকাভুক্তি বা আইনানুগ অযোগ্যতার বিষয় বিবেচনা করে থাকে।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি তার প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করে লিভ টু আপিলের আবেদন করে, তা আপিল বিভাগের অনুমোদন না পেলে প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে অযোগ্য হয়ে যায়। এ প্রেক্ষাপটে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নির্বাচনী কার্যক্রমও সীমিত হয়ে গেছে।

কুমিল্লা-৪ আসনে ভোটাররা ইতিমধ্যেই প্রার্থীদের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় প্রতিনিধি থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দলের কৌশল এবং ভোট বণ্টনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশে নির্বাচনী আচরণ ও প্রার্থীদের যোগ্যতা বিষয়ক মামলাগুলো প্রায়শই আপিল বিভাগে শেষ পর্যায়ে সমাধান হয়। এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচনী আচরণের স্বচ্ছতা ও আইনানুগ নীতিমালা রক্ষা নিশ্চিত করে।

এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন কমিশনও সংশ্লিষ্ট আসনের ভোট গ্রহণ সংক্রান্ত প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সকল আইনগত বিধি অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর আপিল খারিজ হওয়া প্রসঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও দলীয় নেতারা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তারা বলেন, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব এবং আইনের শাসনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।

এই ঘটনা কুমিল্লা-৪ আসনে ভোটারদের মনোভাব ও রাজনৈতিক দৃশ্যপটেও প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী নির্বাচনে দলের নীতি নির্ধারণ, ভোট প্রচারণার কৌশল এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থান সংশোধন প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে, সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটারদের জন্য নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াই এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নতুনভাবে গড়ে উঠছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ