ইরানের ফার্স প্রদেশে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নেই

ইরানের ফার্স প্রদেশে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের ফার্স প্রদেশের মোহর এলাকায় রোববার সকালে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১১ মিনিটে সংঘটিত এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের কাছাকাছি, আনুমানিক ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কম গভীরতার কারণে কম্পনটি উৎপত্তিস্থলের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পে বড় ধরনের প্রাণহানি বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে উৎপত্তিস্থলের নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে বসবাসকারী অনেক মানুষ শক্তভাবে কম্পন অনুভব করেছেন বলে জানা গেছে। ভূমিকম্পের মাত্রা ও গভীরতা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কম্পনে সাধারণত ঘরের ভেতরে রাখা হালকা জিনিসপত্র নড়ে যেতে পারে, তাক বা শেলফ থেকে বস্তু পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে এবং দুর্বল স্থাপনায় জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ফার্স প্রদেশ ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক অঞ্চল। প্রদেশটির বিভিন্ন অংশ পাহাড়ি ও উপত্যকাময় হওয়ায় ভূমিকম্পের কম্পন অনেক সময় তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়। মোহর শহর ও এর আশপাশের এলাকাগুলো মাঝারি জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস বা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্নের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ থেকে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত মাঝারি শক্তির হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মাত্রার ভূমিকম্পে শক্তিশালী ও মানসম্মতভাবে নির্মিত ভবনগুলো সাধারণত বড় ক্ষতির সম্মুখীন না হলেও পুরোনো বা দুর্বল স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে কম গভীরতায় উৎপত্তি হলে কম্পনের তীব্রতা ভূপৃষ্ঠে তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়।

ইরান ভূতাত্ত্বিকভাবে একটি সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি আরবীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে নিয়মিত ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে থাকে। ইতিহাসে ইরানে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সে কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্প ঝুঁকি কমাতে ভবন নির্মাণ বিধিমালা জোরদার করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই সাধারণত কিছু সময়ের মধ্যে ছোট মাত্রার পরবর্তী কম্পন অনুভূত হতে পারে, যা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য উদ্ধার ও চিকিৎসা দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য তথ্য সংগ্রহ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই ভূমিকম্প নতুন করে ইরানের ভূমিকম্প ঝুঁকির বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ