রাজনীতি ডেস্ক
কুমিল্লা-৪ আসনের ১১-দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও ন্যাশনাল কনসারভেটিভ পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তকে আইনের শাসনের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ বহাল রাখার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচনী সময়ে জনগণের কাছে সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যারা আসেন অথচ দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ থাকেন, তাদের বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার মতে, ঋণখেলাপিদের রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেও আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন আসনে একাধিক প্রার্থী এ ধরনের বিষয় সামনে আনতে চাইলেও নিরাপত্তা উদ্বেগ বা সম্ভাব্য হয়রানির আশঙ্কায় তা করতে পারেননি। নিজের করা মামলার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মামলার সময় তার আইনজীবীদের প্রতি চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব সত্ত্বেও আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসেননি।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিষয়টি তিনি কেবল নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখছেন না; বরং দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ ব্যক্তি ও আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই হিসেবে দেখছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের সিদ্ধান্ত এ বার্তা দেয় যে আইনের পথে থাকলে প্রভাবশালী হলেও কেউ দায় এড়াতে পারেন না।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের পটভূমি সম্পর্কে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১৩০ কোটি টাকার বেশি ঋণ গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময়েও তা পরিশোধ করেননি—এমন অভিযোগ আদালতে উপস্থাপিত হয়। ওই ঋণসংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করা হয়। একই ধরনের ঘটনায় ২০০৮ সালেও তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিধান নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আদালতের এই আদেশ বহাল থাকায় ঋণখেলাপি সংক্রান্ত মামলায় বিচারিক নজির আরও সুস্পষ্ট হলো বলে তারা মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত আদালতের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করে। এতে একদিকে প্রার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে জনআগ্রহ বাড়ে, অন্যদিকে দলগুলোকেও মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হয়।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৪ আসনে আগামী নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চলছে। আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশের ফলে ওই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতের রায় বাস্তবায়নের পর নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।


