অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারে ২ টাকা হ্রাস করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ শনিবার রাতে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঘোষিত নতুন মূল্য আগামীকাল রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা, কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা, পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা এবং অকটেনের দাম ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, দেশে বছরে মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ডিজেল, যা মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশ। ডিজেল মূলত কৃষি সেচ, পরিবহণ খাত এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। বাকি ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলের মাধ্যমে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা দেশের ভোক্তাদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। দাম হ্রাস হওয়ায় কৃষি, পরিবহণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে খরচ কিছুটা কমতে পারে। এছাড়া, সাধারণ ভোক্তাদের দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি তেলের ব্যয়ও কমবে।
সরকার নিয়মিত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশীয় জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করছে, যাতে ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত বোঝা না পড়ে। বিপিসি জানাচ্ছে, বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনও বিঘ্ন দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করার জন্য পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।
এই হ্রাস মূলত ২০২৬ সালের প্রথম মাসের আন্তর্জাতিক বাজারের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই জ্বালানি তেলের বাজারে ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রুড তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমেছে, যার প্রভাব দেশীয় বাজারে পড়েছে।
নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বিপিসি এবং সংশ্লিষ্ট তেল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত করছে যে, সমস্ত হাইওয়ে, রেলওয়ে ও স্থানীয় বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে ভোক্তারা স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি তেল ক্রয় করতে পারবেন। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে কৃষি ও পরিবহণ খাতে উৎপাদন ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং ভোক্তা খরচের ওপর জ্বালানি তেলের দাম সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। সেক্ষেত্রে সরকারের নিয়মিত মূল্য সমন্বয় নীতি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং ভোক্তাদের প্রতি বোঝা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


