জাতীয় ডেস্ক
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, প্রবাসীদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ রাখা হবে না। তিনি বলেন, ভোট প্রদানের সময় লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ব্যালটের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের সার্কিট হাউসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ডিজিটাল ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান ইসি। তিনি জানান, প্রবাসীদের ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত ব্যালটে মোট ১১৯টি প্রতীক থাকবে, যার কারণে খাম খোলা এবং ভোট গণনায় তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগবে।
ভোটকেন্দ্রে শুধুমাত্র প্রিজাইডিং অফিসার কলম নিয়ে যাবে, অন্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা পেনসিল ব্যবহার করবেন। ভোট চলাকালীন প্রতি আসনে ১০ জন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনিয়ম রোধ করতে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ভোট কেনাবেচা বন্ধে একাধিক বৈঠক করেছে এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে। নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত সকল কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের আপ্যায়ন বা আতিথেয়তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসি বলেন, অপ তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সত্য এবং সঠিক তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ ও আহত ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব জেলা ও প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
নির্বাচনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে ইসি বলেন, “সততা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থানে থাকবে। এখানে বড় দল বা ছোট দলের কোনো ভেদাভেদ নেই। নির্দেশনার পরও কোনো কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে তার পরিণতি কঠোর হবে।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং যেখানে অনিয়ম হবে সেখানে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো যাবে না।
সভায় বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন সভাপতিত্ব করেন। জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


