বিএনপি বহিষ্কারাদেশ: ছয় নেতাকর্মীকে প্রাথমিক পদসহ সব পদ থেকে বাতিল

বিএনপি বহিষ্কারাদেশ: ছয় নেতাকর্মীকে প্রাথমিক পদসহ সব পদ থেকে বাতিল

রাজনীতি ডেস্ক

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আরও ছয় নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আফজল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ওসমান খাঁন, অরুয়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন রাসেল, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য জাকির হোসেন, মুলুক হোসেন ও কালীকচ্ছ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন অর রশিদকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া, আগের দিন শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে বিএনপির ৪৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন গাইবান্ধা জেলাধীন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মতলেবুর রহমান রেজা, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. এনামুল হক শিল্পী ও সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য মোছা. মুনমুন রহমান। সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম, যুগ্ম সম্পাদক মাসুক আহমদ, সদস্য রিপন আহমদ, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমদ, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ওয়েছ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খছরুজ্জামান পারভেজ, কোষাধ্যক্ষ আবুল বাশার, ২নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসেন নিমাসহ অন্যান্য নেতাকর্মী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

বিএনপির বহিষ্কারাদেশ প্রক্রিয়া সাধারণত দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নীতিমালা রক্ষার উদ্দেশ্যে বাস্তবায়িত হয়। দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই বহিষ্কারাদেশের মাধ্যমে দলের নীতি, নিয়ম ও সিদ্ধান্তে অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে জোর দিয়ে আসছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা বিএনপির বর্তমান নীতি এবং রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। বিশেষত নির্বাচনী মরসুমকে সামনে রেখে দলের ঐক্যবদ্ধতা বজায় রাখা এবং অনৈতিক বা বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত নেতাকর্মীদের দণ্ড প্রদান করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ধরনের বহিষ্কারাদেশ দলের সাধারণ সদস্য ও স্থানীয় ইউনিট পর্যায়ে নেতাদের মধ্যে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে থাকে। দলীয় অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুযায়ী, যে কোনো নেতাকর্মী যদি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বা সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তাহলে তাকে প্রাথমিক পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।

বহিষ্কার তালিকাভুক্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় সদস্যরাও রয়েছেন। এই পদক্ষেপের ফলে দলীয় কার্যক্রমে তাদের ভূমিকা সীমিত হবে এবং দলের নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হবে।

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারাদেশের পরও সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের পুনঃযোগাযোগ বা আপিলের সুযোগ রয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা কমিটি নির্ধারণ করে। তবে, আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বহিষ্কারাদেশ কার্যকর থাকবে।

এ ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নীতি এবং সদস্যশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতিতে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখা এবং সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ করা বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই বহিষ্কারাদেশের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং দলের নীতি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সুসংহত হবে বলে দলের অভ্যন্তরীণ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ