টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে পাকিস্তান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে পাকিস্তান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না

খেলাধূলা ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনার কথা আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের জন্য নির্ধারিত ভেন্যু শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা দেবে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। তবে টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে অংশ নেবে না পাকিস্তান—এমন সিদ্ধান্তও একই সঙ্গে জানানো হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে বিশ্বকাপের সামগ্রিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রভাব এবং পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পাকিস্তানের এই অবস্থানের পেছনে মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবেই শুরুতে বিশ্বকাপ বয়কটের কথা বিবেচনায় আনে পাকিস্তান। জানা গেছে, বাংলাদেশের সমর্থনে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল পিসিবির অভ্যন্তরে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনার পর ভারতের ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, খেলোয়াড়দের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে তারা আপত্তি জানাবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পাঠানো হবে না—এমন বার্তাই দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন জানায়।

আইসিসি অবশ্য ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে কোনো অনিশ্চয়তা নেই বলে দাবি করে এবং ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করেনি। শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশকে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত আইসিসির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভোটাভুটির মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়। জানা গেছে, ওই ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন জানায় কেবল পাকিস্তান। অন্য সদস্য দেশগুলো আইসিসির প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। ফলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে এবং স্কটল্যান্ড জায়গা পায়।

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রথমে কঠোর অবস্থান নেয়। পিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজনে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে পিসিবি। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তে সম্মতি দেওয়া হয়। এতে করে পাকিস্তান বিশ্বকাপে থাকলেও নির্দিষ্ট একটি ম্যাচে অংশ নেবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একদিকে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করেছে, অন্যদিকে আইসিসির সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়ানোর সুযোগ দিয়েছে পাকিস্তানকে। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক রাজনীতি ও ক্রিকেটের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

পাকিস্তান দল এখন শ্রীলঙ্কায় পৌঁছে প্রস্তুতি কার্যক্রমে অংশ নেবে বলে পিসিবি সূত্রে জানা গেছে। বিশ্বকাপে তাদের বাকি ম্যাচগুলো নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে পরবর্তী সময়ে আইসিসি কী অবস্থান নেয়, সেদিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলের।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ