রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ধারাবাহিক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এসব সমাবেশে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সমসাময়িক রাজনীতি, নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও দাবি তুলে ধরেন। সোমবার চট্টগ্রাম নগরী, সীতাকুণ্ড, লোহাগাড়া ও কক্সবাজারে আয়োজিত একাধিক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা চট্টগ্রাম থেকে এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম দিয়েছিলেন। তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকার প্রসঙ্গ উঠে আসে। একই সঙ্গে তিনি কর্নেল অলি আহমদের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বর্তমান রাজনীতিতে তার অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ওই সময় রাজনৈতিক সংঘাতের মাধ্যমে একটি সহিংস ধারার সূচনা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় থাকা দলগুলো সেই ধারাকে আরও বিস্তৃত করেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। এ জন্য তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রতি গণতান্ত্রিক আচরণের আহ্বান জানান।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসদরের ডেবারপাড় মাঠে আয়োজিত জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। তবে এসব তৎপরতা সফল হবে না বলে তিনি দাবি করেন। তার বক্তব্যে তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, জনগণ একটি সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র দেখতে চায়। নির্বাচন চলাকালে অবৈধ অর্থের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
কক্সবাজার পৌর শহরের বাহারছড়া মুক্তিযোদ্ধা মাঠে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনি জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলোর পুনরাবৃত্তি নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচন একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা করবে। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি জুলাই মাসের রাজনৈতিক সহিংসতায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন।
এই সমাবেশে তিনি নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পর্যটন উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে বলা হয়, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নারীদের উচ্চশিক্ষায় সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে এলাকাটিকে একটি সুশৃঙ্খল পর্যটন জেলায় রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, জনগণ দায়িত্ব দিলে তার দল শাসক নয়, সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করবে। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এসব সমাবেশে জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং নির্বাচনি প্রতীক প্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের তথ্যমতে, সোমবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে জামায়াত আমির মোট পাঁচটি জনসভায় অংশ নেন। আগামী দিনে তিনি দেশের অন্যান্য জেলায়ও নির্বাচনি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।


