চট্টগ্রাম-৭: হুমাম কাদেরের নির্বাচনি পথসভা, ভোটারের কাছে পাঁচ বছরের “চাকরি” চাওয়া

চট্টগ্রাম-৭: হুমাম কাদেরের নির্বাচনি পথসভা, ভোটারের কাছে পাঁচ বছরের “চাকরি” চাওয়া

 

রাজনীতি ডেস্ক

বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, দেশের দীর্ঘ ১৭ বছরের “অটোপাশ” নির্বাচনের পর এবার নতুন একটি সুযোগ এসেছে। তিনি বলেন, জনগণই নির্ধারণ করবেন, কাকে ভোট দেবেন এবং তিনি নতুন বাংলাদেশ ও নতুন রাজনীতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের চা শ্রমিকদের সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় হুমাম কাদের এসব মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালে একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন—এই দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি থাকবে না। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রয়াস চালাচ্ছেন তারেক রহমান।

তিনি পথসভায় উপস্থিত জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এই জমির মালিক আপনি। আমি আপনাদের কাছে পাঁচ বছরের জন্য চাকরি চাইতে এসেছি। ১২ তারিখে আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে এই চাকরি দেবেন কি না। ভোট গ্রহণের পর আমাদের পরিচয়হীনতার এই রেওয়াজ বদলাতে হবে।”

পথসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তরজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, সাবেক সদস্য অধ্যাপক আজম খাঁন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, সদস্যসচিব আবু আহমেদ হাসনাত, যুগ্ম আহ্বায়ক ওসমান গণি, কোদালা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোস্তফা।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য আহসান উল্লাহ মেম্বার, ইউনুস মনি, উত্তর জেলা জিয়া শিশু-কিশোর মেলার আহ্বায়ক জাফর আলী, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সেলিম ডালিম ও সদস্যসচিব মো. ইমরান খান, ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বয়ান তালুকদার ও সদস্যসচিব মো. নাছের, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক ও সদস্যসচিব মো. সিরাজসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাঙ্গুনিয়া অঞ্চলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কার্যক্রম গতিশীল হয়েছে এবং বিভিন্ন দলের প্রচারণা এলাকায় ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে। ভোটের আগে পথসভা ও সাধারণ সভার মাধ্যমে প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে তাদের নীতিমালা ও প্রতিশ্রুতির ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

রাজনৈতিক পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম-৭ আসনে নির্বাচনি পরিস্থিতি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। হুমাম কাদেরের মতো প্রার্থীরা স্থানীয় সমস্যা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এই ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা স্থানীয় জনগণের ভোট সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রাজনীতিবিদরা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারণার এই পর্যায়ে নির্বাচনী আচরণ ও বক্তব্যের উপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীরা কেবল ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগই পাচ্ছেন না, বরং নির্বাচনী ইস্যু ও এলাকার উন্নয়নমূলক বিষয়গুলো তুলে ধরার মাধ্যমে তাদের সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

চট্টগ্রাম-৭ এলাকায় এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ, ভোটারদের আগ্রহ ও রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক মানচিত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিটি নির্বাচনী প্রচারণা ও পথসভা এলাকার ভোটারদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংক্ষেপে, হুমাম কাদেরের পথসভা স্থানীয় ভোটারদের কাছে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তার নীতিমালা, প্রতিশ্রুতি এবং স্থানীয় উন্নয়নের পরিকল্পনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা গেছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ