রাজনীতি ডেস্ক
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে মাদারীপুর-১ শিবচরের নন্দকুমার ইন্সটিটিউশন মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। তিনি দেশীয় ও সীমান্ত সংক্রান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন এবং গত জুলাই বিপ্লবের প্রভাব ও জনগণের মনোভাব পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা করেন।
মাওলানা মামুনুল হক সমাবেশে বলেন, সীমান্তে কিছু সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, যারা অসংখ্য মামলার দায়ী এবং জেল খেটে বের হওয়া উচিত তাদেরকে প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। তিনি এসবকে দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। সমাবেশে তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের জনগণের মনোভাব পরিবর্তিত হয়েছে। জনগণ এখন আরও সক্রিয় এবং দুঃসাহসী হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তন কোনো রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন ছাড়াই হয়েছে।”
বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক বাংলাদেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২১৪ বছর ধরে দেশের মানুষ বিভিন্ন শাসন ও শোষণের মুখোমুখি হয়েছে। প্রথমে ইংরেজ শাসন, পরে ভারতীয় জমিদারি প্রথা ও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে দেশ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জন করেছে। স্বাধীনতার পরও দেশের জনগণ শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে, যদিও শাসনের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে।
তিনি সমাবেশে বলেন, দেশের মানুষ এবার দুর্নীতি, লুটপাট ও গুণ্ডামি-ভিত্তিক রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, তারা এবার ভোটাধিকার ব্যবহারের মাধ্যমে দেশীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করবে। তিনি নির্বাচনের গুরুত্বকে ভাতের অধিকার এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সংযুক্ত করেন।
সমাবেশে মাওলানা সরোয়ার হোসেন মৃধা সভাপতিত্ব করেন। অন্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিস প্রার্থী সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, জামায়াতে ইসলামী মাদারীপুর জেলা আমীর মাওলানা মোখলেসুর রহমান এবং ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে খেলাফত মজলিস, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এবং গণ-অধিকার পরিষদ উল্লেখযোগ্যভাবে অংশগ্রহণ করে।
মাওলানা মামুনুল হক সমাবেশে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলো ও ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করতে পারে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের বিষয়টি সমাবেশের মূল আর্কষণ হিসেবে উঠে আসে।


