বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না, পাকিস্তানও বয়কটের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না, পাকিস্তানও বয়কটের সিদ্ধান্ত

খেলাধূলা ডেস্ক

নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে অংশ নিতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। একই ধরনের অবস্থান নিয়ে পাকিস্তান সরকারও গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপের পর আইসিসি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে সতর্ক করেছে।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানি মন্তব্য করেছেন যে, সরকারের নির্দেশ পালন করার প্রেক্ষিতে আইসিসি পাকিস্তানকে কোনো শাস্তি দিতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান অংশ না নেওয়ার সময়ও আইসিসি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মনে করেন, পাকিস্তানকে শাস্তি দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

পিসিবি সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান সরকার আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই পিসিবিকে জানিয়েছে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কারণ প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে ক্রিকেট বোর্ডকে বড় ধরনের শাস্তি দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এহসান মানি বলেন, “সরকারি নির্দেশ মেনে চলার কারণে পাকিস্তানকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এই ভিত্তিতেই ভারত ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে অংশগ্রহণ করেনি। তাই দ্বৈত মানদণ্ড প্রয়োগ করা উচিত নয়।” তিনি আরও বলেন, আইসিসি সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের পরিবর্তে নীরব দর্শকের মতো আচরণ করছে, যার ফলে বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সরকারের মধ্যে সরাসরি সম্পৃক্ততার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে পিসিবি চেয়ারম্যান বর্তমানে সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নীতিমালা এবং দেশের নিরাপত্তা বিষয়ক সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম সীমান্তকে তুলে ধরেছে। আইসিসি যদি পাকিস্তানের এমন অবস্থানের কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিত, তবে সেটি জাতীয় সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ত।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই অবস্থান ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্থিতিশীলতা এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা বজায় রাখতে বোর্ডগুলোকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রভাবের কারণে এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়।

উল্লেখ্য, আইসিসি প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য খেলোয়াড় এবং দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসন ও ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংযোগের পুনর্ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ