শবে বরাতে ঢাকা মহানগরে আতশবাজি, পটকা, ফানুস ও গ্যাস বেলুন নিষিদ্ধ

শবে বরাতে ঢাকা মহানগরে আতশবাজি, পটকা, ফানুস ও গ্যাস বেলুন নিষিদ্ধ

রাজধানী ডেস্ক

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানোসহ বিস্ফোরক দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে ডিএমপি অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬–এর ২৮ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। একই সময়ের মধ্যে ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও ব্যবহার নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, শবে বরাত মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় রাত। এ রাতে অনেক মানুষ ইবাদত-বন্দেগি, কবর জিয়ারত এবং দান-খয়রাতের মতো ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেন। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আতশবাজি, পটকা বা ফানুস ওড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডে অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনা এবং জনভোগান্তির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া শব্দদূষণ ও জননিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এসব কারণেই নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ধর্মীয় পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, আবাসিক এলাকা, বাজার ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো হবে। কোথাও নিষিদ্ধ কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬–এর ২৮ ধারা অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিছু কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ক্ষমতা পুলিশের রয়েছে। এই আইনি ভিত্তিতেই শবে বরাত উপলক্ষে সাময়িকভাবে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে জনসমাগম বাড়লে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নগরবাসীর প্রতি ডিএমপির আহ্বান, সবাই যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেন এবং নিষেধাজ্ঞা মেনে চলেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ আচরণ বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরজীবনে স্বাভাবিকতা ধরে রাখতে সবার সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

ডিএমপি সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাভাবিক নিয়মে আইন প্রয়োগ কার্যক্রম চলবে। এর বাইরে আলাদা কোনো নির্দেশনা না এলে নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র ঘোষিত সময়ের মধ্যেই কার্যকর থাকবে।

রাজধানী শীর্ষ সংবাদ