ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচন বানচালের আশঙ্কা, প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ এনসিপি আহ্বায়কের

ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচন বানচালের আশঙ্কা, প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ এনসিপি আহ্বায়কের

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরনো কৌশলে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সড়ক ও জনবহুল এলাকায় পথসভা ও গণসংযোগকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, আসন্ন নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট শক্তি পূর্বের মতোই ভোটকেন্দ্র দখল, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে—নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে এ ধরনের অপচেষ্টা চালানো হয়, যার লক্ষ্য থাকে নির্বাচন বানচাল করা অথবা ফলাফল প্রভাবিত করা।

তিনি বলেন, “১২ তারিখকে ঘিরে একটি শক্তি পুরনো কায়দায় নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারে। ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা হতে পারে। তবে প্রশাসন যদি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় থাকে, তাহলে এসব অপচেষ্টা সফল হবে না।” এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও কঠোর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই সব ধরনের অনিয়ম ও সহিংসতা প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি জনগণের অর্থায়নে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং বড় কোনো পুঁজিনির্ভর প্রচার কার্যক্রমে যুক্ত নন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ও সমর্থন নিয়েই তিনি নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের প্রচারণা নির্বাচনী রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ায়।

প্রচারণাকালে তিনি ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে নিয়েও বক্তব্য দেন। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ওই প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, যা সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। তাঁর মতে, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা অবস্থায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত সব প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন এবং আশা করেন, কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে আইনি অসঙ্গতি থাকলে তা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ঢাকা-১১ আসন রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল সংসদীয় এলাকা। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাধারণত তীব্র হয়ে থাকে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এখানেও প্রচারণা ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে তারা প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বানও জানিয়েছে কমিশন।

এ অবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বক্তব্য ও পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা অনিয়ম এড়াতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকর ভূমিকা আগামী দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ