আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক আলোচনা দেশের ‘জাতীয় স্বার্থের’ সীমার মধ্যে পরিচালিত হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তেহরান থেকে বার্তাসংস্থা এএফপির মাধ্যমে জানা যায়, মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, হুমকি ও অযৌক্তিক প্রত্যাশা থেকে মুক্ত একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক আলোচনার পথে এগোনোর জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। এ মন্তব্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে দিয়েছেন যে, কোনো চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু ঘটতে পারে’।
গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে বেশ কিছু প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী বহর মোতায়েন করেছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন এখনও তেহরানের সঙ্গে ‘কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব’ বলে আশা করছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু ঘটবে’।
ইরান একদিকে কূটনীতির ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটি বারবার জানিয়েছে যে, আলোচনাগুলো কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনায় অংশ নেওয়া হবে না।
সোমবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক চুক্তির পথে এগোন, তবে নতুন করে আলোচনা হতে পারে। আরাঘচি বলেন, যে কোনো চুক্তি নিশ্চিতভাবে এমন হতে হবে যাতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে। তিনি যোগ করেন, এ ধরনের শর্ত পূরণ হলে চুক্তি অর্জনে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা ‘আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নিতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনার ভবিষ্যৎ মূলত কূটনৈতিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি এবং উভয় পক্ষের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের উপর নির্ভর করবে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ইরানের সংবিধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা নীতি অনুসারে কোনো চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।


