শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে হর্নমুক্ত এলাকা বাস্তবায়নে নতুন কর্মপরিকল্পনা

শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে হর্নমুক্ত এলাকা বাস্তবায়নে নতুন কর্মপরিকল্পনা

পরিবেশ ডেস্ক

ঢাকায় হাইকোর্ট মাজার চত্বরে ‘ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিতকরণ কর্মসূচি’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যাতে আইন অনুযায়ী কার্যকরভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়। তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শীঘ্রই হর্নমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সমাবেশে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঘোষিত নীরব এলাকা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। সমাবেশে তিনি বলেন, হর্নের ব্যবহার রোধে বাংলাদেশ পুলিশ ইতিমধ্যে আইন অনুযায়ী শাস্তি প্রয়োগ শুরু করেছে, যা দেশের জন্য নতুন একটি পদক্ষেপ।

তিনি আরও জানান, প্রণীত বিধিমালায় শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের সকল উৎসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রথম ধাপে হর্নের দূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এটি কার্যকর করা হচ্ছে। বিধিমালায় পুলিশকে সরাসরি জরিমানা করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, যা কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে।

সমাবেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তারা নীরব এলাকা কার্যক্রম বাস্তবায়নে পুলিশের ভূমিকা, জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বিগত কয়েক বছরে ঢাকাসহ দেশের প্রধান নগরীতে যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার শহরের শব্দদূষণ বৃদ্ধি করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে ৮৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দের সীমানা অতিক্রম করলে তা স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। নীরব এলাকা কার্যক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং অন্যান্য জনবহুল এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে হর্নের ব্যবহার সীমিত থাকবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সমন্বিতভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। এ অভিযানের মাধ্যমে যেমন হর্ন বাজানো রোধ করা হবে, তেমনি জনগণকে সচেতন করার জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হবে। উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “শব্দ দূষণ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি সৃষ্টি করে। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা নীরব ও শান্তিপূর্ণ নগর পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঘোষিত নীরব এলাকা কার্যক্রমের যথাযথ বাস্তবায়ন হলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরে শব্দ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি, এ পদক্ষেপ শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে।

সরকারি কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ও কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নীরব এলাকা কার্যক্রমের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারণা, সাইনবোর্ড স্থাপন, এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হর্ন বাজানো রেকর্ড করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং নীরব এলাকা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের নগরগুলোতে পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মানদণ্ড স্থাপন করার লক্ষ্য রয়েছে।

জাতীয় পরিবেশ শীর্ষ সংবাদ