অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ১৮৪ টাকা নির্ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাজুসের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঘোষিত নতুন মূল্য বুধবার থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ১৮৪ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে বাজুস ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল। সে সময় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই মূল্যসূচি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল। তবে একই দিনে বিকেলে আবারও দাম বাড়িয়ে নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হলো।
একই সঙ্গে স্বর্ণের দামের পুনর্নির্ধারণের সময় দেশের বাজারে রুপার দামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৪ টাকা।
স্বর্ণ ও রুপার দামের এই ঘন ঘন পরিবর্তন দেশের গহনা বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর বৃদ্ধি, ডলার বিনিময় হার, আমদানি শুল্ক ও স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার ফলে গহনা শিল্পে খুচরা বিক্রি কিছুটা চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যারা গহনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ব্যয় বাড়বে। অপরদিকে, পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি বা বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ধারণকারীদের জন্য মূল্যবৃদ্ধি আর্থিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজুস নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্বর্ণ ও রুপার দাম সমন্বয় করে থাকে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে ভবিষ্যতেও দামের পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে।


