হ্যাক হওয়া ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আটক হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াত আমির

হ্যাক হওয়া ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আটক হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তাঁর ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ তথ্য জানান।

স্ট্যাটাসে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টটি পূর্বে হ্যাক হয়েছিল এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ দেখা যাবে। তাঁর মতে, দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আইনি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্ক হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনা দেশে ও বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট সাধারণত ব্যক্তির পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এসব অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তাঁর পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, অ্যাকাউন্টটি থেকে দেওয়া কোনো পোস্ট বা বক্তব্য তাঁর নিজস্ব নয় এবং অনুসারীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ট্রেইল শনাক্তকরণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেও অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তির পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

দেশে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের ধরন ও সংখ্যা বাড়ছে। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার—এসব অপরাধ দমনে সরকার বিভিন্ন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার আওতায় এ ধরনের অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক নেতা ও দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলো জনসংযোগের একটি বড় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে ভুয়া বক্তব্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে এ প্রসঙ্গের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, সাইবার অপরাধ দমন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনের কার্যকর প্রয়োগের বিকল্প নেই। তিনি আশা করেন, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ