বরিশাল — জেলা প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার বরিশালে পৌঁছেছেন। দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন। এ সফরকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই দশক পর তারেক রহমানের এটি প্রথম বরিশাল সফর। সর্বশেষ ২০০৬ সালে তিনি বরিশাল সফর করেছিলেন। সে সময় তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এবারের সফরে তিনি দলের চেয়ারম্যান হিসেবে বরিশালে এসেছেন। নির্বাচনের আগে এই সফরকে দক্ষিণাঞ্চলে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার অংশ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
বরিশাল স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বেলস পার্কসহ নগরীর বিভিন্ন প্রবেশপথে জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা—বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরগুনা—থেকে নেতাকর্মীরা জনসভায় অংশ নিতে আসেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
হেলিকপ্টার থেকে নামার পর তারেক রহমানকে বরিশাল বিভাগ ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা স্বাগত জানান। এরপর তিনি নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেন। দলীয় নেতারা জানান, এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সাংগঠনিক কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির বার্তা দেওয়া হবে।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বরিশাল স্টেডিয়াম, আশপাশের সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনসমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমাবেশস্থলে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নির্ধারণ, জরুরি সেবা প্রস্তুত রাখা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দলীয় নেতারা জানান, বরিশালসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ে জনসভাকে বৃহৎ আকারে আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণকে লক্ষ্য ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে এই সংখ্যার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণাঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক এলাকা। দীর্ঘ বিরতির পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচনী পরিবেশ, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ওপর।
এদিকে, তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে নগরীতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়লেও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। জনসমাবেশ শেষে তিনি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।


