জামায়াত আমিরের সমাবেশে বক্তব্য: তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতির অঙ্গীকার

জামায়াত আমিরের সমাবেশে বক্তব্য: তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতির অঙ্গীকার

রাজনীতি ডেস্ক

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে বিভক্ত করার কোনো রাজনীতিতে তাঁর দল বিশ্বাস করে না এবং দেশের সংকটময় সময়েও জামায়াতে ইসলামী দেশ ছেড়ে যায়নি। তিনি অতীত সরকারের শাসনামলকে সমালোচনা করে বলেন, সে সময় দেশ ও জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যার ফল ভোগ করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা হেলিপ্যাডে জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডের দায় এড়াতে একপর্যায়ে দেশত্যাগ করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দুর্যোগ ও জনগণের কষ্টের সময়েও জামায়াতে ইসলামী দেশেই অবস্থান করেছে এবং রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করাই তাঁর দলের নীতিগত অবস্থান।

তিস্তা নদীর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, তিস্তা একসময় এই অঞ্চলের গর্ব হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাবে নদীটি এখন দুঃখ ও সংকটের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি নদী ব্যবস্থাপনাও উন্নত করা যায়।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা অববাহিকা উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে এই অববাহিকার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর মতে, যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, যাতে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করা যায়। উত্তরবঙ্গের প্রতি রাষ্ট্রীয় নীতিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অতীতে এই অঞ্চলের সঙ্গে সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে।

নির্বাচন ও ভোটের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের সম্মতি ও সমর্থনের ভিত্তিতেই প্রকৃত রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব। তিনি দাবি করেন, সৎ ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে যে জনসমর্থন রয়েছে, তা কোনো অবৈধ অর্থ, চাঁদাবাজি বা সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকার প্রয়োগকে জনগণের অধিকার ও দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতি ও দুর্নীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। তাঁর মতে, যারা দুর্নীতিতে জড়িত, তারা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তিনি ঘোষণা দেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে আইনের চোখে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাই সমানভাবে বিচার ও শাস্তির আওতায় আসবে।

ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি গুরুত্ব পায়। সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ ধরনের কর্মসূচি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশ শেষে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, তিস্তা অববাহিকা উন্নয়ন, সুশাসন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনি কার্যক্রম জোরদার করতে চায়। তাঁদের মতে, এসব ইস্যু উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ