রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে জামায়াতে ইসলামী বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে একটি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহারের বিস্তারিত তুলে ধরেন। ইশতেহারে সরকারি চাকরি ও শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনসহ যুব, নারী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সময় যে ফি নেওয়া হয়, তা দল ক্ষমতায় এলে বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দলটি জানিয়েছে, যোগ্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা হিসেবে বিবেচিত হবে না।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে যে, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জন্য ফি নেওয়া হবে না। শিক্ষাকে সহজ ও সর্বজনীন করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া অষ্টম শ্রেণির পর থেকে হায়ার সেকেন্ডারি বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে চারটি পৃথক ধারায় বিভক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ধারাগুলো হলো—ইসলামিক শিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা।
ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে সরকার ক্ষমতায় এলে শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সমন্বয়ে স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে। এছাড়া, শিক্ষা বাজেট জিডিপির ৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য পদক্ষেপ হিসেবে ইশতেহারে বলা হয়েছে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে প্রথম দুই সেমিস্টারের ফি সরকার বিনা সুদে প্রদান করবে। দেশীয় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা করে অর্থ সাহায্য দেওয়া হবে। স্নাতক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার এক লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য মাসে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকের নিয়োগ ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য পৃথক নিয়োগ পদ্ধতি এবং বেতন কাঠামো চালু করা হবে। সকল শিক্ষকদের ধাপে ধাপে উচ্চ গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাদরাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে ইবেতদায়ি মাদরাসাগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সরকারি করার এবং কওমি শিক্ষা সিলেবাস পরিমার্জন করার বিষয়েও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।
নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ইশতেহারে ঘোষণা করেছে যে, ক্ষমতায় এলে স্নাতক পর্যায়ের পর্যন্ত নারীরা বিনা বেতনে পড়াশোনা করতে পারবেন। এছাড়া, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ করা, শিক্ষায় সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাক্রম আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে।
দলের এই ইশতেহার মূলত শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার, সরকারি চাকরি সহজলভ্য করা, যুব ও নারী শিক্ষার্থীদের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষানীতি প্রণয়ন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সবস্তরের জন্য সমানভাবে গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্য রেখেছে জামায়াতে ইসলামী।


