রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় জামায়াতের এক সদস্যের বাসা থেকে ১৫২টি ভোট স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এই ঘটনা স্থানীয় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোট সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সূত্রাপুর থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান চালায়। প্রায় তিন ঘন্টার উদ্ধার অভিযানে বাড়ির নিচতলা এবং ওপরের একটি কক্ষ থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা স্ট্যাম্পগুলো জব্দ করা হয়। অভিযান পরিচালনার সময় বাড়ির মালিককে সতর্ক করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত স্ট্যাম্পের সংখ্যা ১৫২টি। তবে অভিযানের পর কোনো গ্রেফতারী ঘটনা ঘটেনি। এ কারণে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, ওই ১০ তলা ভবনের একটি অংশে কসমোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অবস্থান করছে এবং ভবনটি একটি ভোটকেন্দ্র হিসাবেও ব্যবহৃত হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের নিরাপত্তা এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে। ভোট সংক্রান্ত সরঞ্জাম ও স্ট্যাম্প অবৈধভাবে সংরক্ষণের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করার জন্য ভোটকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট ভবনের নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে। এছাড়া, নির্বাচনী উপকরণ সংরক্ষণ ও ব্যবহারে বিধি-নিষেধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় কমিটি এবং পুলিশ একযোগে কাজ করবে।
রাজধানীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের বিশ্বাস রক্ষার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে কোনো গ্রেফতার বা পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ঘটনা দেশের নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব এবং ভোটকেন্দ্র সংক্রান্ত সরঞ্জাম সুরক্ষায় সরকারের সক্রিয় ভূমিকার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনী উপকরণের অবৈধ সংরক্ষণ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংহত প্রচেষ্টা জরুরি।
সরকারি সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে ভোটকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট ভবনের তদারকি আরও কঠোর করা হবে। স্থানীয়দেরও সচেতন থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়।


