রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ভোটারদের ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য ঈগল প্রতীকের পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর, ইদেলকাঠি ও রাকুদিয়া নতুনহাট এলাকায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত করেন। এই সময় তিনি বলেন, সঠিক নেতৃত্ব ও ন্যায়ভিত্তিক নীতি অনুসরণ করলে জনগণের সরকার গঠিত হবে এবং দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। অন্যথায় দেশে পুনরায় স্বৈরশাসনের উত্থান ঘটতে পারে।
ফুয়াদ বলেন, নষ্ট ও পুরোনো রাজনীতিতে আর রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ৫৫ বছরের ইতিহাসে বরিশাল-৩ আসনটি যথাযথভাবে উন্নয়নের সুযোগ পায়নি। পর্যাপ্ত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে বাবুগঞ্জসহ এই অঞ্চল বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এজন্য নতুন ধরনের, ইনসাফভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, পুরোনো ধারার রাজনীতি চলতে দেওয়া গেলে দেশ ও এলাকার মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় পাবে না। তাই জনগণকে পরিবর্তনের জন্য জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এবি পার্টির প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
পথসভায় জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান অলিদ, উপজেলা জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাঝি, রুহুল আমিন খায়ের, জেলা এবি পার্টির সদস্যসচিব জিএম রাব্বি, সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রার্থীর বক্তব্য সমর্থন জানিয়ে এলাকার জনগণের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালান।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বরিশাল-৩ আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আসনে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অভাবকে ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া প্রার্থীর বক্তব্য ও ভোটারদের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করবে আসনটি কোন রাজনৈতিক শক্তির দখলে যাবে।
এছাড়া, এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রার্থীর প্রতিশ্রুতিগুলো নির্বাচনী আলোচনা ও জনমতকে প্রভাবিত করছে। বিশেষত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নকে কেন্দ্রে রেখে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশে শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই স্থানীয় প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আসনের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা নির্বাচনী প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।


