জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক মামলায় গ্রেপ্তার বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামারের জামিন

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক মামলায় গ্রেপ্তার বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামারের জামিন

আইন আদালত ডেস্ক

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি গ্রহণ করে বিচারক জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন মঞ্জুরের ক্ষেত্রে আসামির পেশা, মামলার তদন্তের অগ্রগতি, অভিযোগের ধরন এবং আইনগত দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে জামিন মঞ্জুর হলেও মামলার তদন্ত চলমান থাকবে এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে আসামিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগে বলা হয়—ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত এক্স অ্যাকাউন্টে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে কিছু পোস্ট বা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যা ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল কার্যক্রমের আইপি লগ, ডিভাইস অ্যাক্সেস এবং অনলাইন ট্রেইল যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে জানান, সাইবার অপরাধের অভিযোগটি স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্তে সময় প্রয়োজন। তবে তারা জামিন শুনানির সময় মামলার তদন্ত চলমান থাকার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। অপরদিকে আসামিপক্ষ দাবি করে, মোহাম্মদ ছরওয়ার আলম একজন সরকারি কর্মচারী এবং স্থায়ী ঠিকানার বাসিন্দা হওয়ায় তার পলায়নের আশঙ্কা নেই। পাশাপাশি তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলেও আদালতকে আশ্বস্ত করা হয়।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অননুমোদিতভাবে কোনো ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ, তথ্য পরিবর্তন বা বিভ্রান্তিকর কার্যক্রম পরিচালনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য। এ ধরনের মামলায় প্রযুক্তিগত প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল অপরাধের ক্ষেত্রে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সার্ভার লগ এবং সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের সহায়তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো পক্ষপাত ছাড়াই প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বা অননুমোদিত কার্যক্রম প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জোরদার করা হচ্ছে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট যেকোনো প্রয়োজনে হাজির হতে হবে এবং আদালতের নির্ধারিত শর্তাবলি মেনে চলতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হবে বলে আদালত সূত্রে জানানো হয়েছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ