সৌদি আরবে উটদের জন্য আনুষ্ঠানিক পাসপোর্ট চালু

সৌদি আরবে উটদের জন্য আনুষ্ঠানিক পাসপোর্ট চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি আরবের সরকার উটদের জন্য অফিসিয়াল পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পাসপোর্ট মানুষের মতো বিদেশে যাতায়াতের অনুমতি দেবে না; বরং এর উদ্দেশ্য হলো দেশের উট সংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক ডাটাবেস তৈরি এবং প্রাণীখাতের উৎপাদনশীলতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা। সৌদি আরবের কৃষি মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রাণী পরিচালনা ও রোগ ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণ সাধন।

মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সবুজ রঙের উট পাসপোর্টের ছবি প্রকাশ করেছে। পাসপোর্টের সামনে দেশের কোস্ট অব আর্মসের সঙ্গে একটি স্বর্ণের উটের ছবি রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রতিটি পাসপোর্টে উটের জাত, মালিক এবং অন্যান্য পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়াও প্রতিটি উটের বিস্তারিত টিকাদান রেকর্ড থাকবে, যা সংশ্লিষ্ট প্রাণীর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি নির্ভরযোগ্য মেডিকেল ফাইল হিসেবে কাজ করবে।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে সংক্রামক রোগের পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং দেশের উট খাতের মান উন্নত হবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উটের জন্য তৈরি এই ডাটাবেসে প্রতিটি প্রাণীর স্বাস্থ্য, জন্ম, মালিকানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এটি উটের উৎপাদনশীলতা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করার সুযোগ দেবে।

উট সংক্রান্ত ইতিহাসে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রায় সাত হাজার বছরের পুরোনো শিলায় খোদাই করা উট ও ঘোড়ার ভাস্কর্য পাওয়া গেছে, যা উটের গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে দেশটি উটের পরিচয়পত্র চালুর মাধ্যমে প্রাণীটির সংরক্ষণ, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং ঐতিহ্য রক্ষায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই পাসপোর্ট ব্যবস্থার ফলে প্রতিটি উটের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, টিকাদান, রোগ প্রতিরোধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রমের তথ্য একটি কেন্দ্রীভূত ডাটাবেসে সংরক্ষিত হবে। ফলে উটের রোগতত্ত্ব নিরীক্ষণ ও প্রজনন ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে।

সৌদি আরবে উট শুধুমাত্র পরিবহন বা খামার প্রজাতি হিসেবে নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। দেশের কৃষি মন্ত্রণালয় আশা করছে, পাসপোর্ট প্রবর্তনের মাধ্যমে উট খাতের আধুনিকীকরণ, রোগ ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি সম্ভব হবে। এই উদ্যোগে উট মালিক এবং খামারিদের জন্য কার্যকর নিয়মনীতি স্থাপন করা হয়েছে, যা প্রাণীর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করবে এবং খামার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনবে।

বর্তমান ব্যবস্থায় উট মালিকানা এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য প্রায়শই বিচ্ছিন্নভাবে সংরক্ষিত থাকলেও নতুন পাসপোর্টের মাধ্যমে সব তথ্য একটি কেন্দ্রীভূত ও স্বচ্ছ ফরম্যাটে সংরক্ষিত হবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি উট খাতের পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ এবং নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, এই উদ্যোগ সৌদি আরবের প্রাণীখাত আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে, যা দেশীয় উট ও অন্যান্য প্রাণীর স্বাস্থ্য, উৎপাদনশীলতা এবং প্রজনন ব্যবস্থাপনায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ