প্রবাসী আয় রেমিট্যান্সে ২১.৭% বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব

প্রবাসী আয় রেমিট্যান্সে ২১.৭% বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে জানা গেছে, জুলাই ২০২৫ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৯৯৩ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স প্রবেশ করেছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের ১ হাজার ৬৩৮ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের তুলনায় ২১.৭ শতাংশ বেশি।

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের প্রথম চার দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৫০ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ এবং ৪ ফেব্রুয়ারি দুই দিনে ১৮ কোটি মার্কিন ডলার এসেছে। তুলনামূলকভাবে, ২০২৫ সালের একই সময়ে প্রথম চার দিনে দেশে ৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স প্রবেশ করেছিল। এ হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ১৯.৮ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, প্রবাসীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার বৃদ্ধি, প্রণোদনা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকা এবং আর্থিক লেনদেনে স্থিতিশীলতার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি দেশের চলতি অ্যাকাউন্ট ঘাটতি কমাতে, বিনিয়োগের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত, প্রবাসী আয় ঘাটতি কমাতে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশে প্রায় ১৩ মিলিয়ন প্রবাসী শ্রমিক রয়েছেন, যারা মূলত মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপে কর্মরত। প্রবাসী আয় দেশের মোট রপ্তানি আয়ের পরিপূরক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের নীতি অনুযায়ী বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রেরিত রেমিট্যান্সে নির্দিষ্ট অনুদান ও উৎসাহ প্রদান করা হয়, যা বৈধ প্রেরণাকে উৎসাহিত করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে প্রবাসী রেমিট্যান্সে ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ২ হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈধ চ্যানেল ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসার রেমিট্যান্সের প্রবাহকে আরও সুবিধাজনক করেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদিও প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক, তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির ওপরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতি সৃজনশীল ও টেকসই উন্নয়নকে সীমিত করতে পারে।

এছাড়া, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে রিজার্ভ তহবিল শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি সরকারের ব্যয় কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রোগ্রাম চালু রাখতেও সহায়তা করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার এই প্রবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি, ব্যাঙ্কিং খাতের স্থিতিশীলতাও বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, দেশের অর্থনীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। সরকারি প্রণোদনা, বৈধ চ্যানেল ব্যবহার এবং প্রবাসীদের অবদান রেমিট্যান্স প্রবাহকে সুসংহত ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ